Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ তদন্তের ঘটনায় কংগ্রেসে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত নিকি ফ্লোরিস ও ব্র্যাডলি বেনাভিদেস ২০২০ সালে বিতর্কিত ওই ল্যাপটপ তদন্তের সময় এফবিআইয়ের বিদেশি গোয়েন্দা হস্তক্ষেপবিষয়ক টাস্কফোর্সের দায়িত্বে ছিলেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হন তারা। 

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে পুরোনো ঘটনাকে সামনে এনে বিচার বিভাগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর পেছনে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের পরিবর্তে রাজনৈতিক বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফ্লোরিসের আইনজীবী এক বিবৃতিতে জানান, তার মক্কেল প্রায় ২০ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে এফবিআইয়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

কী অভিযোগ আনা হয়েছে?

হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপের অস্তিত্ব ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসছিল। ল্যাপটপটি ডেলাওয়ারের একটি কম্পিউটার মেরামতের দোকানে রেখে যাওয়ার পর আর সংগ্রহ করা হয়নি। পরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পোস্ট এটির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ল্যাপটপটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে কয়েকজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, এর পেছনে রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক তৎপরতা থাকতে পারে। তবে পরে এফবিআই ল্যাপটপটি জব্দ করে এবং এর তথ্য ও বার্তাগুলোর সত্যতা যাচাই করে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ফ্লোরিস ও বেনাভিদেস কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানিয়েছিলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে কাজ করা এফবিআইয়ের ফরেন ইন্টেলিজেন্স টাস্কফোর্স (এফআইটিএফ) হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ তদন্তে জড়িত ছিল না। কিন্তু একই সময়ের কিছু বার্তার সঙ্গে তাদের বক্তব্যের অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা।

ল্যাপটপের তথ্যের মধ্যে হান্টার বাইডেনের বিদেশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছিল। পরে ল্যাপটপের তথ্য তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত ও কর ফাঁকির মামলায় ব্যবহৃত হয়। তবে তার ব্যবসায়িক যোগাযোগ কিংবা বাবার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এফবিআইয়ের ওই টাস্কফোর্স বিলুপ্ত করা হয়। বর্তমান এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় সংস্থাটির কর্মকাণ্ড তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কংগ্রেসে মিথ্যা বলা আইনের শাসনের জন্য গুরুতর বিষয়।

অন্যদিকে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন, প্যাটেলের নেতৃত্বে তদন্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলায় বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি এবং ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্য সিনেটর এল লুইস লুকাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা প্রকাশের ঘটনাও রয়েছে।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
এমআর