Image description

শীত মৌসুম শুরুর আগেই প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতে বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে ইউরোপ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্নের কারণে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে মহাদেশটিতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং শীতকালে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জার্মানির বার্লিনে বুধবার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। উপসাগরীয় অঞ্চলে এখনই শান্তি ফিরে এলেও আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে প্রায় ৭২ শতাংশ পূর্ণ। অথচ বছরের এই সময়ে সাধারণত মজুতের পরিমাণ থাকে প্রায় ৯০ শতাংশ। ফলে শীতের চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, মজুতের এই ঘাটতি প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ বাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সমপরিমাণ। শীতের তীব্রতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেন, শীত বেশি পড়লে গ্যাসের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বছর ও আগামী বছর ইউরোপের মানুষের জন্য জ্বালানি পরিস্থিতি সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করার প্রয়োজন হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিমন্ত্রীরা। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিরলের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন সংকটের আশঙ্কা বাড়ায় সরকারগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিকল্প পথে জ্বালানি পরিবহনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ফাতিহ বিরল মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতো। তবে এখন বিভিন্ন সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, শীত শুরুর আগেই ইউরোপের গ্যাসের মজুতে ঘাটতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে গ্যাসের দাম, পরিবারগুলোর জ্বালানি ব্যয় এবং শিল্পকারখানার পরিচালন খরচে।

এসএ