প্রযুক্তি ও আধুনিক উদ্ভাবনের ছোঁয়ায় তৈরি প্রয়াত আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দের ‘হলোগ্রাফিক অবতারের’ সঙ্গে অনন্য এক কথোপকথনে অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুরুর সেই প্রযুক্তিনির্ভর অবতারের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভবিষ্যৎ দেশসেবা ও কর্মকাণ্ডের জন্য আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি। গুরুর হলোগ্রাম রূপকে এত জীবন্তভাবে সামনে পেয়ে একপর্যায়ে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ) ভারতের নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী ‘ভারত মণ্ডপমে’ বিশ্বখ্যাত ধর্মীয় সংস্থা ‘চিন্ময় মিশন’-এর ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বিরল দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।
অনুষ্ঠানে আধুনিক হলোগ্রাম প্রযুক্তির মাধ্যমে মঞ্চে ভেসে ওঠে স্বামী চিন্ময়ানন্দের ত্রিমাত্রিক অবয়ব। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে বলেন, “আপনার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আজ দেশ ও জাতির কল্যাণে আমি যে কাজগুলো এগিয়ে নিতে চাই, সেগুলোর জন্য আপনার ঐশ্বরিক আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।”
জবাবে হলোগ্রাফিক অবতারে স্বামী চিন্ময়ানন্দ মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উত্থানে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ভারত আপনার সঙ্গে আছে, নরেন্দ্র।”
প্রযুক্তির এমন অসাধারণ ব্যবহার ও অনুভূতিকে স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “হলোগ্রামের মাধ্যমে চিন্ময়জির ঐশ্বরিক উপস্থিতি দেখে আমার মনে হয়েছিল, আমি যেন ৩৩ বছর আগের সেই পুরনো দিনগুলোতে ফিরে গেছি। আমার জন্য এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।”
১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের দিকে স্বামী চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি রোমন্থন করেন মোদি। তিনি জানান, সে সময় শিকাগোয় অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব ধর্ম সংসদ’-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি গুরুদেবেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। গুরুজি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও দুঃখজনকভাবে অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ১৯৯৩ সালের ৩ আগস্ট পরলোক গমন করেন।
মোদি আরও উল্লেখ করেন, গুরুর সঙ্গে তাঁর শেষ আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল দেশের তরুণ প্রজন্মকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে একটি সক্ষম ভারত গড়ে তোলা। গত ২৫ বছর ধরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পুরো যাত্রায় গুরুর আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও আশীর্বাদ সবসময় তাঁর সঙ্গী ছিল বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রযুক্তি ও আধ্যাত্মিকতার এই মেলবন্ধন ভারতজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডিআর




Comments