Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা মো. আজমাইন হোসেন সোহাগের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার পরিদর্শক আব্দুল হান্নান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করে জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সোহাগের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বাপেক্স ভবন, পল্লী ভবন, পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও কাব্যকস সুপার মার্কেটের সামনে তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ওই হামলা চালান। এতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ সদস্যসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের দাবি, সোহাগ এ মামলার ৬০ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনার সময় মামলা করা সম্ভব হয়নি। পরে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

গত ১২ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ডিআর