Image description

কারাগার থেকে আদালতে সশরীরে আসামি হাজির করার বিদ্যমান জটিলতা কমিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা গেলে দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর বিষয়টি নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এই অভিমত প্রকাশ করেন।

প্রতিদিনের নির্ধারিত তারিখে হাজার হাজার আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝামেলার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “প্রতিদিন কারাগার থেকে যে পরিমাণ আসামিকে ধার্য তারিখে কোর্টে হাজির করতে হয়, তা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। এতে একদিকে যেমন গাড়ি ও জ্বালানি লাগে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সিকিউরিটি নিয়োজিত রাখতে হয়। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুরো একটি আইনশৃঙ্খলা সেক্টরকে শুধু আদালত প্রাঙ্গণেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিশেষ কিছু আসামির ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ডিজিটাল হাজিরা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আসামি কারাগারে বসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকের সামনে হাজিরা দিচ্ছেন এবং আদালত তা ডিজিটালি কনফার্ম করছেন।

দেশের আদালতগুলোতে মামলা জটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার বিপরীতে মাত্র ২,৩০০ জন বিচারক দিয়ে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত দুরূহ। বিচার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও জনগণের বিশ্বস্ত করে তুলতে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বিচারক নিয়োগ এবং কর্মবিমুখ জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার।

এছাড়া সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, নতুন সংবিধান সংস্কারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, অভিজ্ঞ সাংবাদিকসহ সমাজের সব অংশীজনের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডিআর