প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও বার্তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের আচরণ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণের শামিল।
রোববার (১ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলেন রাশেদ খান। একই সঙ্গে পত্রিকাটি ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি। ওই দিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জবাবে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া দেখান বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ডিইউজে নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করা নিন্দনীয়। এ আচরণের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিকে অস্বীকার করা হয়েছে।
তারা বলেন, কোনো সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিবাদ পাঠাতে পারেন, প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারেন কিংবা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু এসব পদক্ষেপ না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচার করে সংবাদপত্র সম্পর্কে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তারা। তাদের মতে, সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের আচরণ উসকানিমূলক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও আম-জনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান ‘আমার দেশ’-এর একটি পুরোনো খবরকে কেন্দ্র করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ডিইউজে নেতারা এ দাবিকে উসকানিমূলক এবং সম্পাদককে সরাসরি হুমকি দেওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেন।
ডিইউজে নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন দেওয়া এবং পত্রিকা অফিসে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তাদের দাবি, রাশেদ খানের মতো ব্যক্তিরাও একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উসকানি দিচ্ছেন।
এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ, সম্পাদকদের হুমকি এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করার অপচেষ্টা চলছে। সাংবাদিক সমাজ এ ধরনের অপচেষ্টা বরদাশত করবে না।




Comments