পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অন্তত ৬০টি ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাব।
সংস্থাটির ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩টি জেলায় নথিভুক্ত ৬০টি ঘটনার মধ্যে ৫২টিতে প্রার্থনাসভা, ব্যক্তিগত বাড়ি, গির্জা ও ধর্মীয় জমায়েতে হামলা বা বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাকি আটটি ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা নিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শুভেন্দু বিশ্বাস বলেন, আগে মালদহের বাঙালি খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। এখন ধর্মীয় আচার পালন করতেও তাঁরা ভয় পাচ্ছেন।
সম্প্রতি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মালদহে উত্তেজনা ছড়ায়। বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা এ অভিযোগ তুললেও স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের দাবি, তাঁরা স্বেচ্ছায় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় প্রার্থনাসভাকে কেন্দ্র করে গোলযোগের কথা জানিয়েছেন মালদহের পুলিশ সুপার। বিষয়টি তদন্তাধীন।
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার পশ্চিম অর্জুনদাত গ্রামেও প্রার্থনাসভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক খ্রিস্টান নারীকে মারধর এবং শুদ্ধিকরণের নামে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
বঙ্গ খ্রিস্টান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা হেরড মল্লিকের অভিযোগ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ধর্মান্তকরণের অভিযোগের বিষয়গুলোও আইনি পথেই মোকাবিলা করা হবে।
এসএস




Comments