Image description

মানুষের নেক আমল ধ্বংস হওয়ার জন্য কুধারণাই যথেষ্ট। ইসলামে অন্যের প্রতি কুধারণা পোষণ করা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বিস্তারিতভাবে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, বেশি ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো। কারণ কোনো কোনো ধারণা ও অনুমান গুনাহ। অন্যের দোষ অন্বেষণ করো না। আর তোমাদের কেউ যেন কারও গিবত না করে। এমন কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছে, যে তার নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? দেখো, তা খেতে তোমাদের ঘৃণা হয়। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ অধিক পরিমাণে তাওবা কবুলকারী এবং দয়ালু’ (সুরা হুজরাত-১২)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়-তিনটি কাজ হারাম। এক. মানুষ সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখা। দুই. কারও দোষত্রুটি তালাশ করা। তিন. কারও সম্পর্কে গিবত বা সমালোচনা করা। উল্লিখিত আয়াতে এ তিনটি বিষয়ই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলো প্রত্যেকটা কবিরা গুনাহ অর্থাৎ সবচেয়ে বড় গুনাহ। কোরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘এদের মধ্যে দ্বিতীয় একটি দল হচ্ছে নিরক্ষরদের। তাদের কিতাবের জ্ঞান নেই, নিজেদের ভিত্তিহীন আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো নিয়ে বসে আছে এবং নিছক অনুমান ও ধারণার ওপর নির্ভর করে চলছে। কাজেই তাদের জন্য ধ্বংস অবধারিত, যারা স্বহস্তে শরিয়তের লিখন লেখে, তারপর লোকেদের বলে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। এভাবে তারা এর বিনিময়ে সামান্য স্বার্থ লাভ করে। তাদের হাতের এই লিখন তাদের ধ্বংসের কারণ এবং তাদের এই উপার্জনও তাদের ধ্বংসের উপকরণ’ (সুরা আল বাকারা ৭৮-৭৯)। এ আয়াতে অনুমান ও ধারণার ওপর নির্ভর করাকে ধ্বংসের কারণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসের কিতাবগুলোতে অসংখ্য হাদিসে কুধারণা থেকে বেঁচে থাকার প্রতি নির্দেশ এসেছে। কারণ মানুষের প্রতি কুধারণা বহু অপরাধের জন্ম দেয়। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাবধান! তোমরা কুধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকবে।
এমআর