১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মিশর। এরপর আরও তিনবার বিশ্বমঞ্চে খেললেও জয় অধরাই ছিল উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির জন্য। অবশেষে ৯২ বছরের সেই দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটল। মোহাম্মদ সালাহ ও মোস্তাফা জিকোদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম জয়ের দেখা পেল ‘লাল জার্সিধারী’রা।
সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুদল। তবে ম্যাচের শুরুটা মিশরের জন্য সুখকর ছিল না। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই কর্নার থেকে আসা বলে দারুণ এক হেডে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ফিন সারম্যান। গোল হজমের পর মিশর বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয়। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মোহামেদ সালাহর দল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই খোলনলচে বদলে যায় মিশর। ৫৮ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান মোস্তাফা জিকো। ডান প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান তিনি। এই গোলটি মিশরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দেখা মেলে ‘লিভারপুল কিংবদন্তি’ মোহাম্মদ সালাহর ম্যাজিক। মোস্তাফা জিকোর পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দর্শনীয় বাঁকানো শটে নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। সালাহর এই গোলে প্রথমবারের মতো লিড নেয় মিশর।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফারাওরা। ৮২ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা ত্রেজেগে। সালাহর নেওয়া কর্নার থেকে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ত্রেজেগে সহজ হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে মিশর শিবির।
এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রথম আট ম্যাচে কোনো জয় পায়নি মিশর। অবশেষে নিজেদের নবম ম্যাচে এসে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল তারা। এর ফলে দীর্ঘ ৯২ বছরের জয়খরা কাটল দলটির।
উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিশর। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ইরানের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ে গ্রুপ ‘জি’-তে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী করল সালাহ-বাহিনী।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments