Image description

বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ম্যাচটিকে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘হাই-রিস্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটির আগে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৬৮ হাজার ২৩৯ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখা হলেও ভেতরে তাদের আলাদা বসার ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয় প্রশাসন সংঘর্ষ এড়াতে শহরের কিছু নির্দিষ্ট বার ও রেস্তোরাঁ শুধু ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য এবং অন্যগুলো শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য নির্ধারণ করেছে।

এই ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনার মূল কারণ ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং দুই দলের দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনা দলের ড্রেসিংরুমের একটি ভিডিওও আলোচনায় এসেছে। সেখানে খেলোয়াড়দের ‘লাস মালভিনাস, পর দিয়েগো অ্যান্ড পর লা আলতিমা দে লিও’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর অর্থ, ‘ফকল্যান্ডসের জন্য, ম্যারাডোনার জন্য এবং লিও মেসির শেষ বিশ্বকাপের জন্য’।

রাজনৈতিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কিরিনো সম্প্রতি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বুয়েনস আইরেস সরকার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর, এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্টেডিয়ামে ফকল্যান্ডস বা ‘মালভিনাস’ ইস্যুকে উসকে দিতে পারে-এমন ব্যানার, পতাকা বা প্ল্যাকার্ড দেখা গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করতে হবে।

এদিকে, নিজের পডকাস্টে ফকল্যান্ডসের পরিবর্তে ‘মালভিনাস’ শব্দ ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গ্যারি লিনেকার। তবে তিনি বলেছেন, আর্জেন্টিনায় দ্বীপটি এই নামেই পরিচিত, তাই তিনি কেবল প্রচলিত নামই ব্যবহার করেছেন।