Image description

আবুধাবি টেস্টে ৩২৯ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। এদিন হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের বোলিং তোপে পড়ে আড়াইশোর আগেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস। সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান করে তারা। এতে করে বাংলাদেশ পায় ১০৬ রানের বিশাল লিড।

তৃতীয় দিনে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার শুরুটা হাসান মাহমুদের হাত ধরে। দিনের শুরুতে দারুণ এক হ্যাটট্রিকে আফগানদের ইনিংসের মেরুদণ্ডই ভেঙে দেন হাসান। তৃতীয় উইকেটটি শুরুতে না পেলেও রিভিউ নিয়ে তুলে ফেলেছেন। পরে আরও ১ উইকেট নিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেছেন হাসান। তার ৫ উইকেটের সাথে ইবাদত হোসেন চৌধুরীর ৪ উইকেট মিলিয়ে আফগানদের ২৪০ রানেই থামিয়েছে বাংলাদেশ। ১০৬ রানের লিডও নিয়েছে।  

পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২২৩ রান তুলেছে টাইগাররা, ৬ উইকেট হারিয়ে। এখন ৩২৯ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম খেলেছেন ৮০ ছাড়ানো ইনিংস।

আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যকার আবুধাবি টেস্টে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে আছেন পাকিস্তানের রমিজ রাজা। খুব কাছ থেকেই দেখছেন হাসান মাহমুদদের বোলিং। নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও দিচ্ছেন নিয়মিত বিশ্লেষণ।

এবার হাসানকে প্রশংসায় ভাসালেন রমিজ রাজা। সাথে মুগ্ধ হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং এবং অধিনায়কত্বে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের সর্বশেষ ভিডিওতে রমিজ বলেছেন, ‘হাসান মাহমুদ চমৎকার করছে। তার স্পেলের কারণেই ম্যাচটা ঘুরে গেছে। দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছে। নতুন বলে ১০ মিনিটেই ম্যাচটা একপেশে করে দিয়েছে। হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত, তাকে যতই দেখি ততই ভালো লাগে। দারুণ লেন্থ, মুভমেন্ট আছে বলে, মুখে হাসিও আছে। ২৪-২৫ বছর বয়স। খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে তার যে ফর্ম চলছে, অস্ট্রেলিয়াকে একবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সামনে যারাই আসছে (সেখানেই ভালো করছে সে)। আফগানিস্তান হোক আর যে দলই হোক, টেস্ট ম্যাচের গুরুত্ব সবসময় সমান। সে টানা দলকে ম্যাচ জিতিয়েই যাচ্ছে।’

হাসানদের বোলিয়ের প্রশংসা করে রমিজ আরও জানান, ‘অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ মোটেই সহজ ছিল না। তারা (বাংলাদেশ) অনেক ভালো পারফর্ম করেছিল। তাদের কাছে ভালো ফাস্ট বোলার আছে, স্পিন বিভাগ ভালো, সাথে ভালো ব্যাটারও রয়েছে। এসব কারণেই বাংলাদেশ দল আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে ৪র্থ স্থানে রয়েছে।’

আগামী দিনেও বাংলাদেশের সাফল্য দেখছেন রমিজ রাজা। তার মতে, ‘এরপর তাদের ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আছে। আমার মনে হয় তারা সেখানেও জিতবে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিবে। ফলে শান্তর অধীনে তাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। শান্ত এবং মুশফিকের (মুশফিকুর রহিম) জুটিটা অনেক দরকার ছিল। ৫৩ রানে ৩ উইকেট চলে গেল, যদিও ১০৬ রানের লিড ছিল তাদের। পরে মনে হয় তারা দুইজন দেড়শ রানের জুটি বানানো। এর ফলে ইনিংসে স্থিতিশীলতা এসেছে। সেখান থেকেই ম্যাচটা বাংলাদেশের পকেটে চলে এসেছে।’

শান্তকে নিয়ে আলাদা করে রমিজ বলেন, ‘শান্তর ইনিংস নিয়ে বলব এমন পরিষ্কার ইনিংস আর কেউ খেলেনি। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হচ্ছে সে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেনি। ব্যাটিং করার সময়ে অনেকের অনেক জায়গাতে ভুল হতে পারে, টাইমিংয়ে সমস্যা হতে পারে। এরপরেও সে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ৮০-৮৫ রানের ইনিংস খেলেছে।’

আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ চলছে আবুধাবিতে।
এমআর