Image description

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। দলের ‘কঠোর মানসিকতার’ অভাব নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে পঞ্চম দিনে প্রোটিয়া স্পিনার সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে হারলেও টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছেন অজি অধিনায়ক।

ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু কেপটাউনে ১৭৬ রানের পরাজয়ে সিরিজ হাতছাড়া করে তারা। শেষ পাঁচ টেস্টের তিনটিতেই হেরেছে অজিরা। এতে আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারিয়েছে দলটি। মে ২০২৪-এর পর এই প্রথম এক নম্বর অবস্থান থেকে নেমে গেছে তারা। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এখন তিন নম্বরে।

আগামী ৯ ডিসেম্বর পার্থে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আবার মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। তবে কেপটাউন টেস্টে দুই ইনিংসে ০ ও ৪ রান করা মার্নাস লাবুশেনের দলে জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টানা ১৬ ইনিংসে ফিফটি না পাওয়া এই ব্যাটারের জায়গায় পরিবর্তন আসতে পারে। ঘাড়ের চোট কাটিয়ে স্টিভ স্মিথ ফিরলে ব্যাটিং অর্ডারেও রদবদল হতে পারে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত অলআউট করতে না পারার বিষয়টিও পর্যালোচনায় আসবে।

সিরিজ হারের পর কামিন্স বলেন, টানা দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হারলে দল নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং পরিবর্তনের আলোচনা স্বাভাবিক। ড্রেসিংরুমেও তারা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। এক নম্বরে ফিরতে কৌশল কিংবা খেলোয়াড়—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩২৯ রানে অলআউট করাকে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইতিবাচক মনে করেন কামিন্স। টসের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উইকেটে রান তোলার সুযোগ ছিল। প্রথম দিনে বোলাররা আরও সহায়তা পাবেন বলে তারা আশা করেছিলেন। তবে টস জিতে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে ১০০ বা ২০০ রানে অলআউট করার নিশ্চয়তা নিয়ে মাঠে নামে না।

পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্যকে নাগালের মধ্যে মনে করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ব্যাটিং ধসের কারণে শেষ পর্যন্ত হারতে হয় দলটিকে। কামিন্সের মতে, উইকেট রান করার উপযোগী ছিল। কিছু ভুল সিদ্ধান্ত তাদের ডুবিয়েছে। স্পিনকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে নিজেদের রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের ওপর আস্থা রেখে উইকেটে টিকে থাকার সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি ব্যাটাররা।

ডারবান টেস্ট জয়ের পরও এভাবে সিরিজ হারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অজি অধিনায়ক। তার মতে, ভবিষ্যৎ সূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় আবার কবে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ আসবে, তা নিশ্চিত নয়। দলের অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই দেশটিতে এটি শেষ টেস্ট সিরিজ হয়ে থাকতে পারে। তাই এমন সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় আক্ষেপ রয়েছে তাদের।