ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কম চাপের কারণে পোশাক, ডাইং, চামড়া, বস্ত্র, স্পিনিং, ইস্পাত, সিরামিক ও কাগজ কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিল্পমালিকদের হিসাবে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের এক হাজারের বেশি কারখানা গ্যাস সংকটে পড়েছে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন, সেখানে অনেক এলাকায় মিলছে মাত্র ১ থেকে ৩ পিএসআই। ফলে বয়লার, জেনারেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।
সাভারের রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার বিভিন্ন কারখানায় গ্যাস সংকটের প্রভাব দেখা গেছে। কোথাও উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে, আবার কোনো কোনো কারখানা ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছে। এতে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
সাভারের পাকিজা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারখানাটিতে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য অন্তত ৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও অনেক সময় চাপ ২ পিএসআই থেকে এক পিএসআইয়ের নিচে নেমে যায়।
উলাইল এলাকার আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানাগুলোতেও একই পরিস্থিতি। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ জানান, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য তাদের কারখানায় অন্তত ২০ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে চাপ ৬ পিএসআই থেকে অনেক সময় ৪ পিএসআইয়ের নিচে নেমে যায়।
তিনি জানান, তিন মাস আগে কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ গজ কাপড় উৎপাদন হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার গজে।
সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতেও গ্যাস সংকট তীব্র। সেখানে থাকা ১৪৫টি কারখানার প্রায় অর্ধেক বর্তমানে গ্যাস পাচ্ছে না। অন্য কারখানাগুলোও চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ আগেও শিল্পনগরীর কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ ছিল। বর্তমানে কিছুটা সরবরাহ পাওয়া গেলেও অধিকাংশ কারখানা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে। এতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব শ্রমিকদের কাজের ওপরও পড়ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ নিশ্চিত করা না গেলে শিল্প খাতের সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে।
তিতাসের সাভার জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ হাসান আল মামুন বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শিল্পকারখানায় প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কম গ্যাসচাপের কারণে উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এসএস




Comments