সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু, ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের সব কার্যক্রম বন্ধ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি)।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসআরবির মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
বিএসআরবির মহাপরিচালক বলেন, শুক্রবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিপইয়ার্ডটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডের সব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে নোঙর করে রাখা একটি পুরোনো জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে ৯ শ্রমিক মারা যান। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
দুর্ঘটনার শিকার জাহাজটির নাম ‘এমটি রাসি’। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৮০ মিটার ও প্রস্থ ৪৩ মিটার। গত বছরের জুলাইয়ে এটি চট্টগ্রামে নোঙর করে। পরে ১৩ জুলাই জাহাজটি ভাঙার জন্য ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে আনা হয়।
এ ঘটনায় শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের নিরাপত্তায় শিপইয়ার্ডে কী ধরনের ব্যবস্থা ছিল, আবদ্ধ স্থান ও জাহাজের ট্যাংকে গ্যাস শনাক্ত করা হয়েছিল কি না এবং কাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএসআরবির স্থগিতাদেশের কারণে তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শিপইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এসএস




Comments