মিয়ানমারের বাগো অঞ্চলের ইয়েদাশে শহরে জান্তা বাহিনীর ওপর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৪০ জন সেনা নিহত হয়েছে। রাজধানী নেপিদোর দক্ষিণাঞ্চলীয় এই এলাকায় গত মঙ্গলবার এসব হামলার ঘটনা ঘটে। নেপিদো পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিটাং নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরের জান্তা ঘাঁটি এবং সেনাদের একটি শক্তিশালী কলাম লক্ষ্য করে এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল নদীর পশ্চিম তীরের দোতান ও খিনতানলে গ্রাম এবং পূর্ব তীরের ওমিয়াতু গ্রামের জান্তা আউটপোস্টগুলো।
পিডিএফ জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় দোতান গ্রামের কাছে প্রায় ৪০ জন সেনার একটি ক্যাম্পে প্রথম হামলা চালানো হয়। এতে ২ জন সেনা নিহত হয় এবং কিছু গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর, ওই ক্যাম্পে সহায়তার জন্য আসা জান্তা বাহিনীর প্রায় ৭০ জন সেনার একটি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এতে অন্তত ২০ জন জান্তা সেনা নিহত হয়।
একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে ওমিয়াতু গ্রামে জান্তা বাহিনীর ওপর আরেকটি বড় হামলা চালানো হয়। সেখানেও অন্তত ২০ জন সেনা প্রাণ হারায়। হামলার পর প্রতিরোধ যোদ্ধারা গ্রামটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ৩ জন সেনাকে বন্দী করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সারাদিন ধরে চলা এই লড়াইয়ে জান্তা বাহিনী ভারী কামানের গোলা ব্যবহার করেছে। জান্তার গোলায় তাখুয়েকিয়ে গ্রামের দুই নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া সিটাং নদীর পশ্চিম তীরের শত শত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে সোয়া ও ইয়েদাশে শহরের বিভিন্ন মঠে আশ্রয় নিয়েছেন।
গত সপ্তাহেও ইয়েদাশে শহরে একটি ভোটকেন্দ্রসহ বেশ কিছু জান্তা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল পিডিএফ ও তাদের মিত্ররা। জান্তা সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তিন ধাপে প্রায় মাসব্যাপী এই নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে, যার প্রথম ধাপ গত রবিবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। সামরিক অভ্যুত্থানের প্রায় পাঁচ বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দেশটির জান্তাবিরোধী শক্তিগুলো 'প্রহসন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
তথ্যসূত্র: মিয়ানমার নাউ




Comments