যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার তেহরানে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই নিন্দা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি খামেনিকে নৃশংসভাবে হত্যার নিন্দা জানান এবং জাতীয় শোকের এ সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন।
এদিকে শুক্রবার ইরানে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিতে গত বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন নিজ বাসভবনে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এর পরপরই ইরান পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি আরব দেশে পাল্টা হামলা চালায়। তেহরানের দাবি, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়। হামলার পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানালেও ইরানের ওপর হামলা বা খামেনির হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করেনি।
পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে ২ মার্চ দেওয়া আরেক বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ ‘মর্মাহত’ বলে জানায়। তবে তখনও হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি।
এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদী বলেন, বাংলাদেশের কাছে ইরান কোনো যুদ্ধ সহায়তা চায় না; বরং একটি আক্রান্ত দেশ হিসেবে নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রত্যাশা করে।
এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। একই সময়ে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠি নিয়ে উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ সফর করেন তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও ইরানের কয়েক শতাব্দীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়ও তুলে ধরেন।




Comments