Image description

দক্ষিণ কোরিয়ার শিনচিয়নজি চার্চের ৯৫ বছর বয়সী নেতা চেয়ারম্যান লি মান-হির আটক নিয়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও ইউরোপীয় ধর্মীয় গবেষকেরা। তারা প্রবীণ এই ধর্মীয় নেতার দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সিউলের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লি মান-হির বিচারপূর্ব আটকাদেশ পুনর্বিবেচনা করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে ৯৫ বছর বয়সী শিনচিয়নজি চেয়ারম্যান লি মান-হির বিচারপূর্ব আটকাদেশ এবং ৮৩ বছর বয়সী ফ্যামিলি ফেডারেশনের নেতা হাক-জা হান মুনের প্রতি আচরণ নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তোলা হয়।

মানবাধিকারকর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানান।

তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, আইনি প্রক্রিয়ায় আনুপাতিকতা নিশ্চিত করা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাদের মানবিক কারণে মুক্তি দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ শুধু একটি মামলায় সীমাবদ্ধ নয়। বুসানের সেগেরো চার্চ, দেগুতে মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে বিরোধ, বিবেকের তাড়নায় সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি আচরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলোও এ আলোচনায় উঠে আসে।

হিউম্যান রাইটস উইদাউট ফ্রন্টিয়ার্স (এইচআরডাব্লিউএফ)-এর সহযোগী পরিচালক হ্যান্স নুট বলেন, কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সামাজিকভাবে কলঙ্কিত করা বা শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সীমিত করা গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক নীতির জন্য হুমকি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কাছে চেয়ারম্যান লি মান-হিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

তবে এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এসএ