বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন নিধি তিওয়ারি। তবে লক্ষ্য ছিল প্রশাসন ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করা। সেই স্বপ্ন পূরণে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের চাকরি ছেড়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।
একবার ব্যর্থতার কাছাকাছি গিয়েও থেমে যাননি নিধি। শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৯৬তম স্থান অর্জন করে যোগ দেন ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে (আইএফএস)। ২০১৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব। ২০২৫ সালে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়।
লখনউ থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে
উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে বেড়ে ওঠা নিধি তিওয়ারি সেখানেই স্কুল ও স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেন। পরে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনায় ভালো ফলাফলের জন্য তিনি স্বর্ণপদকও পান।
শিক্ষাজীবন শেষে ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নিধি। সেখানে সফল ক্যারিয়ার শুরু হলেও প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কাজ করার আগ্রহ থেকেই ২০০৮ সালে সেই চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।
ইউপিএসসিতে সাফল্য
বিজ্ঞানীর চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। এরপর শুরু হয় কঠোর প্রস্তুতি। ২০১২ সালের পরীক্ষায় তার নাম ওয়েটিং লিস্টে থাকলেও তিনি হাল ছাড়েননি।
পরের বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য পান নিধি। ২০১৩ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৯৬তম স্থান অর্জন করেন। এর মাধ্যমে ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিনি।
কূটনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা
ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন নিধি। বিশেষ করে নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজ করার সময়ও তাকে পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
পিএমওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
২০২২ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন নিধি তিওয়ারি। পরে ডেপুটি সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন তিনি।
পিএমওতে দায়িত্ব পালনের সময় পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত ছিলেন নিধি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
মোদির ব্যক্তিগত সচিব
কূটনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা, পিএমওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান নিধি তিওয়ারি।
২০২৫ সালে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ভারতের সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দৈনন্দিন সমন্বয়, নীতিগত বিভিন্ন বিষয় এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি কার্যক্রমে এই পদে থাকা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
বিজ্ঞানী থেকে কূটনীতিক, এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা—নিধি তিওয়ারির ক্যারিয়ারের এই পথচলা ভারতের প্রশাসনিক অঙ্গনে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।
এসএস




Comments