Image description

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের মধ্যে দীর্ঘদিন সাগরে থাকা ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে টানা ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন এই বিমানবাহী রণতরী। জুলাইতেই লিংকন টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে আগের একটি মার্কিন নৌবাহিনীর রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এরপরও থামেনি এর অভিযান। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

পরিবারের সদস্য ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাহাজের কয়েকজন নাবিক মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে ওভারবোর্ডে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একাধিক নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারাও উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মার্কিন নৌবাহিনী এসব অভিযোগের সবগুলো নিশ্চিত করেনি। বরং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আত্মহত্যার চেষ্টায় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তারা শনাক্ত করেনি এবং নাবিকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা চালু রয়েছে।

শুধু মানসিক চাপ নয়, লিংকনের জীবনযাত্রার পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খাবার ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ কিছু প্রয়োজনীয় রসদে ঘাটতি, পানির মান, প্লাম্বিং এবং অন্যান্য দৈনন্দিন সুবিধা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন।

তার ভাষ্য, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিকরা অসাধারণ দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রতিটি জাহাজ ও ক্রুকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে হেগসেথের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল নাবিকদের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন ও তাদের কল্যাণ নিয়ে জবাবদিহিতা চেয়েছেন। অ্যারিজোনার সিনেটর রুবেন গ্যালেগোও বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনের আগ্রহ জানিয়েছেন।

এদিকে, লিংকনের জায়গা নিতে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জর্জ ওয়াশিংটন গত ৩০ জুলাই ভিয়েতনামের দানাং বন্দরে পৌঁছেছিল। এর সঙ্গে ছিল ক্রুজার ইউএসএস রবার্ট স্মলস এবং ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস শুপ। পরে বহরটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে, জর্জ ওয়াশিংটনের এই মোতায়েনকে শুধু লিংকনের নাবিকদের দুরবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে Reuters ও AP জানিয়েছে, এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ ছিল।

তারপরও লিংকনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এবং নাবিকদের নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপ সামলাতে মার্কিন নৌবাহিনী কতটা প্রস্তুত? একদিকে ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান ও ইরানি বন্দর অবরোধ ধরে রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকা মার্কিন নাবিকদের ওপর বাড়ছে চাপ।

এম আর এ