মাধবপুরে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং ও আকাশচুম্বী বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও কৃষিজীবীরা বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ঘন ঘন লো-ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন ও কম্পিউটারসহ মূল্যবান বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে মৎস্যপ্রধান এই এলাকায় সময়মতো বরফ তৈরি করতে না পারায় মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সামনে পরীক্ষা থাকায় রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে অন্ধকারের মধ্যে তাদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকরাও সময়মতো গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে আয়-রোজগার হারচ্ছেন।
তবে ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিল। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, যেখানে দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না, সেখানে মাস শেষে বিল আসছে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ কমে গেলেও বিল কীভাবে বাড়ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনের বড় একটা সময় বিদ্যুৎ থাকে না, ঠিকমতো বাতি-ফ্যান জ্বালাতে পারি না। অথচ বিল আসছে আকাশচুম্বী। বিদ্যুৎ নেই, তবুও বিল বাড়ে—এ কেমন হিসাব?’
মাধবপুরের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা দাবি তুলেছেন, অতিরিক্ত বিলের কারণ খুঁজে বের করতে মিটার রিডিংয়ের স্বচ্ছতা যাচাই করা হোক এবং কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা হোক।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইউছুব আলী জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বর্তমানে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। লো-ভোল্টেজের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থাকে, তবে তারা সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভুতুড়ে বিলের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাধবপুরবাসী।
ডিআর




Comments