অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নৌ-অবরোধ ও আরোপিত বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করতে আবারও নতুন সমুদ্র অভিযানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’। আন্তর্জাতিক এই মানবিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী অক্টোবরে তাদের নৌবহর গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেওয়া জাহাজগুলো মূল গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালির বিভিন্ন বন্দরে অবস্থান করবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য সমুদ্রপথে গাজায় প্রবেশের ওপর ইসরায়েলের বিধিনিষেধ ভাঙা এবং ফিলিস্তিন নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য তেল আবিবের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়ানো। এর পাশাপাশি ইউরোপের বন্দরগুলোতে অবস্থানের সময় স্থানীয় সংগঠনের সহায়তায় বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর ইসরায়েলকে অস্ত্র ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হবে।
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জোহার চেম্বারলাইন-রেভেগ বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছে বলেই ফ্রিডম ফ্লোটিলা আবারও যাত্রা করছে। ফিলিস্তিনিদের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি আমরা প্রতিটি বন্দরে তুলে ধরব।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে ফ্লোটিলার নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দাবি করা হয়েছে। একই সাথে জাহাজে কোনো ধরনের সামরিক হামলা, আরোহণ, জব্দকরণ বা কর্মীদের বেআইনি আটক করার ঘটনা ঘটলে দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও দখলদারিত্ব অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাত্র পাঁচ দিনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২১ জনই বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে চার শিশু ও এক নারী রয়েছেন। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এখনও চরম ঝুঁকির মুখে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে উপত্যকাটিতে মোট ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৬৬ জন।
সূত্র: The Guardian
এনএ




Comments