কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমানো বা এতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বানকে ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন মন্তব্যের মধ্যেই এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় দরপতন হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, এআই খাতে নতুন করে ‘গার্ডরেল’ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজন নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এআই ও ডেটা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে, যাতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে চীন।
ট্রাম্পের এ মন্তব্য আসে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেইয়ের সতর্কবার্তার পর। আমোদেই এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নকে ‘বেপরোয়া’ বলে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান ডেমিস হাসাবিস ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক।
আমোদেইয়ের আশঙ্কা, বিপুলসংখ্যক এআই এজেন্ট একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে তারা ইন্টারনেটের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তার এই সতর্কবার্তার পর সোমবার এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি শুরু হয়।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি এনভিডিয়ার শেয়ার লেনদেনের শুরুতেই ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। এএমডির শেয়ার কমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, মাইক্রন টেকনোলজির ৬ শতাংশ এবং স্যান্ডিস্কের ৫ শতাংশ।
ওপেনএআইয়ের বড় বিনিয়োগকারী জাপানের সফটব্যাংকের শেয়ারও ১৩ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক কমেছে ৩ শতাংশ। এ ছাড়া তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) শেয়ার ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
ইউরোপেও প্রযুক্তি খাতে দরপতন দেখা গেছে। ডাচ চিপ সরঞ্জাম নির্মাতা এএসএমএলের শেয়ার একপর্যায়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
তবে এআইয়ের দ্রুত বিকাশে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা কিছু কোম্পানির শেয়ারে উল্টো উত্থান দেখা গেছে। বিজ্ঞাপন খাতের ডব্লিউপিপির শেয়ার ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান রিলএক্সের শেয়ার ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে এআইয়ের দ্রুত বিকাশ ও পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের অভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতারা এআইয়ের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। চীনের কর্মকর্তারাও এআইকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এসএস




Comments