ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বরেণ্য রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজার পর শেষ জানাজা তথা তৃতীয় জানাজাতেও জনতার ঢল নামে।
মঙ্গলবার (বা সংশ্লিষ্ট দিন) বাদ আছর তাঁর নিজ গ্রাম সদর উপজেলার দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানের সামনে তৃতীয় তথা শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো কোড়ালিয়া গ্রাম জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। পারিবারিক কবরস্থানের সামনে আয়োজিত এই জানাজায় মানুষের ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে, জানাজার কাতার আশপাশের রাস্তা ও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
তৃতীয় জানাজা শেষে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই এই বর্ষীয়ান জননেতাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে, দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ও বিদায় জানাতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন।
জানাজা শুরুর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুম তোফায়েল আহমেদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মরহুমের মরদেহ এদিন দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হয়। সেখান থেকে একটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
শেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ও মায়ের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে ভোলাসহ সারা দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ যেমন রাজপথ কাঁপিয়েছেন, তেমনি শেষ বিদায়েও পেলেন সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভালোবাসা।




Comments