প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন।
১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। এরপর প্রতিবার ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিনও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
এবার ক্ষমতাসীন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জামায়াত জোট ইতোমধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিএনপি এখনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২১০টি আসন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবে বিএনপির প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সর্বোচ্চ বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থী বিজয়ী হবেন। তবে একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
এদিকে জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সদস্যদের ভোটে এবং গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে।
এসএস




Comments