Image description

দেশের মানুষ আর কোনোদিন গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যারা অন্যায়, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের রক্ত নিয়েছে, এ দেশের মানুষের ওপর সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছে, সেই জালেম ও স্বৈরাচারী শক্তির রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না।

শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় আয়োজিত ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং দ্বীন ও দেশের স্বার্থে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মরহুম আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ শীর্ষ আলেমদের সাহসী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে বহু আলেম-ওলামা ও ছাত্র-জনতা আত্মাহুতি দিয়েছেন।

বিগত সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের হিসাবমতে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এছাড়া বিগত দেড় দশকে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হন এবং ৭ হাজারের বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নিজের গুমের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, আমিও গুমের শিকার হয়েছিলাম; আল্লাহর রহমত ও দেশবাসীর দোয়ায় ফিরে এসেছি।

গার্মেন্টস খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার পেছনেও ফ্যাসিবাদী শক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন চাই? তাদের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র কারা তৈরি করছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণহত্যা ও নিপীড়ন চালিয়ে যারা গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা কোনো অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করেনি। ফলে রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য থাকলেও গণহত্যাকারীদের পুনর্বাসন না করার প্রশ্নে দেশের সর্বস্তরের জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপন করা হবে এবং ইসলামী মূল্যবোধকে যথাযথভাবে সংবিধানে ধারণ করা হবে। ধর্মকে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি আলেম-ওলামা ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষভাগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া এবং জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।