টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি
বিষ্ণোইদের টার্গেটে সালমান ও তাঁর বলয়, হরিণ শিকারের প্রতিশোধ কি থামবে?
ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক কাণ্ড নয়; এটি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে অপরাধচক্র ও গ্যাংস্টারদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তারের এক বিপজ্জনক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ঘটা এই হামলায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো বলিউড পাড়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকাশ্য হুমকি এবং এর নেপথ্যে দুই দশকের পুরোনো একটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার যোগসূত্র পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল ও উদ্বেগের এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
হামলার নেপথ্য ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুঁশিয়ারি
ঘটনার পরপরই অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়, টাইগার শ্রফ তাদের নিষেধ অমান্য করে সালমান খানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় তাঁকে ‘হিটলিস্টে’ রাখা হয়েছে।
ভিডিওটিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যারা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথা অমান্য করে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে। এটি আমাদের প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা।” এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গ্যাংটি বুঝিয়ে দিল যে, তাদের মূল টার্গেট শুধু সালমান খান একা নন, বরং তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সমমনা যেকোনো তারকাই এখন তাদের নিশানায় রয়েছেন।
যে ক্ষোভের শুরু ১৯৯৮ সালে
এই পুরো ঘটনার শেকড় গাঁথা রয়েছে ১৯৯৮ সালের রাজস্থানের মরুভূমিতে। ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন রাতে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের যে অভিযোগ উঠেছিল সালমান খানের বিরুদ্ধে, তা রাজস্থানের প্রাচীন ও প্রকৃতিপ্রেমী ‘বিশনোই’ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসে চরম আঘাত হেনেছিল। পঞ্চদশ শতকের ধর্মগুরু জম্ভেশ্বরের অনুসারী এই সম্প্রদায়ের কাছে একটি পশুকে হত্যা করা মানে সরাসরি ঈশ্বরের বিধান লঙ্ঘন করা।
আইনগত লড়াইয়ে সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করা, তাঁর কারাবাস এবং জামিনে মুক্তির দীর্ঘ নাটকের পরও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভ একটুও ম্লান হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা সাজায়। ২০২৩ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) জানিয়েছিল যে, বিষ্ণোইয়ের ‘হিটলিস্ট’-এর এক নম্বরে রয়েছে সালমানের নাম।
টাইগার শ্রফ কেন টার্গেট?
প্রশ্ন উঠতেই পারে, সালমান খানের সঙ্গে টাইগার শ্রফের সরাসরি কোনো মেগা সিনেমা নেই, তবুও কেন এই আক্রমণ? টাইগার শ্রফ ও সালমান খান বড় কোনো সিনেমায় একসাথে কাজ না করলেও তাদের মধ্যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে বেশ ভালো যোগাযোগ রয়েছে। শোনা যায়, প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে পরামর্শ দিয়ে টাইগারকে বলিউডে আসার পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন সালমান খান নিজেই। এছাড়া টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফ-এর সাথেও সালমানের বেশ কয়েকটি বড় সিনেমা রয়েছে। এমনকি ফিটনেস ও অ্যাকশন সিনেমা নিয়ে দুজনেই একে অপরকে দারুণ প্রশংসা করেন।
নব্বইয়ের দশকে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের ঝনঝনানি নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে যেভাবে প্রকাশ্যে গ্যাংস্টাররা খুনের হুমকি দিচ্ছে এবং তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে, তাতে বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ার পেছনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ডিআর




Comments