Image description

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের ঘোষণার পর দেশটিতে চলছে শোকের আবহ। স্কুলে শিশুদের কান্না, টেলিভিশনে সংবাদকর্মীদের অশ্রু আর সংবাদপত্র জুড়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণার পাশাপাশি উঠছে এক বিশেষ দাবি, কিংবদন্তি মেসির প্রতি সম্মান জানিয়ে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ‘১০ নম্বর জার্সি’ চিরতরে তুলে রাখা হোক।

তবে আবেগ যতই প্রবল হোক, বাস্তবতার নিরিখে আর্জেন্টিনার এই ঐতিহাসিক জার্সি কেন অবসরে পাঠানো সম্ভব বা সমীচীন নয়, তার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ফিফার নিয়মের আইনি বাধ্যবাধকতা: আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) চাইলেও মেসির ১০ নম্বর জার্সি আজীবনের জন্য তুলে (রিটায়ার) রাখতে পারছে না। ফিফার অফিশিয়াল প্রতিযোগিতাগুলোর স্কোয়াড নম্বরিং সংক্রান্ত নীতিমালার কারণে কোনো নির্দিষ্ট নম্বর জাতীয় দলে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া কার্যত অসম্ভব।
  • ম্যারাডোনা-পরবর্তী ইতিহাসের শিক্ষা: আর্জেন্টিনা আগেও ঠিক এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২০ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রয়াণের পরও ১০ নম্বর জার্সি তুলে রাখার দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেদিন যদি তা করা হতো, তবে লিওনেল মেসির গায়ে আর সেই ঐতিহাসিক জার্সি উঠত না এবং মেসিও নিজের অনন্য ইতিহাস রচনা করতে পারতেন না।
  • দলের মূল চালিকাশক্তির প্রতীক: আর্জেন্টিনার ফুটবলে ‘১০ নম্বর’ কোনো সাধারণ স্কোয়াড নম্বর নয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি সংরক্ষিত থাকে দলের মূল সৃজনশীল ও জিনিয়াস ফুটবলারের জন্য। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা এই নম্বরটিকে অমরত্ব দিয়েছিলেন, আর ২০০৯ সাল থেকে টানা ২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি এটিকে নিজের মতো করে আপন করে নিয়েছেন।
  • আলাদা ব্যক্তিত্বে একই শ্রেষ্ঠত্ব: ম্যারাডোনা এবং মেসি—দুজনের চরিত্র ও খেলার ধাঁচ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ম্যারাডোনা ছিলেন চরম আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভরা এক চরিত্র, অন্যদিকে মেসি তুলনামূলক শান্ত ও সংযত। কিন্তু মেসি ম্যারাডোনার ছায়া হয়ে নয়, বরং নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে এই জার্সির মর্যাদা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
  • নতুন প্রতিভার সম্ভাবনার পথ খোলা রাখা: স্প্যানিশ ভাষায় একটি প্রবাদ রয়েছে, ‘নো আই দোস সিন ত্রেস’ (তিনের পুনরাবৃত্তি ছাড়া দুটি পূর্ণ হয় না)। ফুটবলের চিরন্তন আশা হলো, আর্জেন্টিনা সবসময়ই বিশ্বমানের প্রতিভার জন্মভূমি। হয়তো ম্যারাডোনা কিংবা মেসির মতো কেউ আর কোনোদিন আসবে না; তবে ১০ নম্বর জার্সি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হলো ভবিষ্যতে আরেকটি বিস্ময়কর প্রতিভার উঠে আসার পথ রুদ্ধ করে দেওয়া।

আর্জেন্টিনা এখনও সেই সম্ভাবনা ও আশাকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত নয়।

লেখক পরিচিতি

এজিকিয়েল ফার্নান্দেজ মুরেস একজন প্রখ্যাত আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট।

আল জাজিরায় প্রকাশিত মূল নিবন্ধটি সংক্ষেপিত ও অনুবাদ করেছেন দৈনিক মানবকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নুর আলম সিদ্দিকী।

প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত সংশ্লিষ্ট লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর যথার্থতা ও মতামতের দায় লেখক ও মূল উৎসের। এ বিষয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠ কর্তৃপক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ।

এনএ