সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় ন্যূনতম মজুরিসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনরত তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাভার মডেল থানার ওসিসহ অন্তত ৭ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সাংবাদিক এবং ৩০ জনের বেশি শ্রমিকসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সংঘর্ষ চলাকালে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা, আন্দোলনকারী কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত না করা এবং ইতিপূর্বে আটক করা সহকর্মী শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন তৈরি পোশাকশ্রমিকরা।
বুধবার সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা দলে দলে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল থেকেই এলাকার ১১টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।
সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে অবস্থানরত শ্রমিকদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে পদ্মার মোড় এলাকায় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালান।
অন্যদিকে, সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে পুলিশের ওপর ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকরা। পুলিশও পাল্টা টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এখানেও প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ওসি সাইফুল আলমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন ৭১ টেলিভিশনের রায়ইন ও উজ্জ্বল এবং স্টার নিউজের সিরাজি। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের সময় শ্রমিকরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান বলে জানা গেছে।
এদিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
ডিআর




Comments