পবায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ফেরত
বর্ষায় বন্ধ খননকাজ, ব্যয় হয়েছে শুধু সম্পন্ন কাজের অর্থ
রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নে ‘বৈরাগীর খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে খালে পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার খননের পর কাজ বন্ধ রাখতে হয়। ফলে প্রকল্পের বরাদ্দের বড় একটি অংশ অব্যয়িত থেকে যায়। কাজ যতটুকু হয়েছে, শুধু ততটুকুর অর্থ ব্যয় করে অব্যয়িত ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নে ‘বৈরাগীর খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্পটিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা।
প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে খালে পানির প্রবাহ ও পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে খননকাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রায় এক কিলোমিটার খননের পর কাজ বন্ধ রাখতে হয়। উপজেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কাজ অসম্পূর্ণ থাকলেও পুরো বরাদ্দ ব্যয় করা হয়নি। সম্পন্ন কাজের বিপরীতে যতটুকু অর্থ প্রয়োজন হয়েছে, শুধু সেই অর্থই ব্যয় করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। বৃষ্টির কারণে যে কাজ করা সম্ভব হয়নি, সেই কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
তিনি বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে প্রকল্পের প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ করা সম্ভব হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুর অর্থই ব্যয় করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। এর বিপরীতে পবার ‘বৈরাগীর খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পে কাজের পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ ব্যয় এবং অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
এসএ




Comments