ক্ষমা চাইলেন আনসার সদস্য
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপবাদে শাশুড়ি-জামাইকে হেনস্তা, তদন্তে মেলেনি সত্যতা
অভিযুক্তের শাস্তির দাবি
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক নারী ও এক যুবককে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকে রেখে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় কথিত অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ। এ ঘটনায় ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে জড়িত এক আনসার সদস্য দাবি করেছেন, ভিডিওটি ভুলবশত তার ফোন থেকে পোস্ট হয়ে যায়। এ জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত এক মধ্যবয়সী নারী ও পাঞ্জাবি পরা এক যুবককে একটি কক্ষে আটকে রেখে কয়েকজন আনসার সদস্য জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ঘটনার তিন দিন পর ১৪ অক্টোবর হাটহাজারী থানা পুলিশের তদন্তে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আনসার সদস্য পুলিশের তদন্তকারী দল ও গণমাধ্যমের সামনে বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক নারী ও এক পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ভিডিও ধারণ করেন।
ওই আনসার সদস্যের দাবি, নারী ও যুবককে সেখানে নিয়ে আসা এক ব্যক্তি ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করেছিলেন। তার কথার ভিত্তিতেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। তবে বাস্তবে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ নেই।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর তার ফোন থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হয়ে যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে ভিডিওটি পোস্ট করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। এরই মধ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে শেয়ার করেন।
ভিডিওটি প্রকাশের কারণে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ওই আনসার সদস্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
হাটহাজারী থানা পুলিশের তদন্তকারী দলের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়া কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার তথ্য সামনে আসার পর অভিযুক্ত আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।
এনএ




Comments