সাজেক আজ শূন্য, পর্যটকহীন উপত্যকায় ফের প্রাণ ফেরার আকুল প্রতীক্ষা
পাহাড়ের রূপালী আঁকাবাঁকা পথ, সবুজ উপত্যকা আর মেঘের উপচে পড়া অপরূপ সৌন্দর্য—যেখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের প্রাণবন্ত আনাগোনায় মুখরিত থাকত সাজেক ভ্যালি, তা আজ এক নিঝুম ও সম্পূর্ণ জনশূন্য জনপদ। মেঘ-পাহাড়ের মিতালি দেখতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় স্থানীয় কটেজ, রিসোর্ট ও হোটেলগুলোতে যে চঞ্চল পরিবেশ তৈরি হতো, তা এখন একদম স্তব্ধ। পাহাড়ি পথ ধরে এখন আর ছোটে না পর্যটকবাহী চান্দের গাড়ি কিংবা জিপ। চারপাশের সবুজ পাহাড়জুড়ে নেমে এসেছে এক ভারী ও অচেনা নিস্তব্ধতা।
অনিবার্য পরিস্থিতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং রিসোর্ট-কটেজ বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই সাজেকজুড়ে এই চিত্র তৈরি হয়েছে। পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়া ও কংলাক পাড়ার শতাধিক কটেজ, রেস্তোরাঁ এবং পাহাড়ি হস্তশিল্পের দোকানগুলো এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাজেক একটি শতভাগ পর্যটননির্ভর এলাকা। ছোট-বড় কটেজ মালিক, ট্যুর গাইড, জিপ চালক, হোটেলকর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় পাহাড়িপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবার জীবিকা এই পর্যটনের ওপরই নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক না থাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা স্থানীয় পাহাড়িপাড়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সাজেকের এক রিসোর্ট ব্যবসায়ী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "সাজেক এত শান্ত ও নিস্তব্ধ রূপ আমরা আগে কখনো দেখিনি। মানুষ না থাকলে পাহাড়ের এই অপার সৌন্দর্য যেন ম্লান হয়ে যায়। তবে আমরা আশাবাদী, সব সংকট কেটে গিয়ে সাজেক খুব দ্রুত আগের মতো চঞ্চল হয়ে উঠবে।"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই মেঘলা দিন কেটে যাবে খুব শিগগিরই। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ামাত্রই পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে মেঘের উপত্যকা সাজেক। আবার পর্যটকদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে পাহাড়ি পথঘাট, রাতে জ্বলবে কটেজের আলো, আর কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘের সূর্যোদয় দেখতে ভিড় জমাবে প্রকৃতিপ্রেমী হাজারো মানুষ।
ডিআর




Comments