সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) প্রথমবারের মতো অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ‘চিঠি উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিক সংগঠন গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) উদ্যোগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
হারিয়ে যেতে বসা হাতে লেখা চিঠির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই প্রাচীন মাধ্যমে মনের ভাব পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উৎসবের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে প্রতীকী চিঠি তুলে দেওয়া হয়। এরপর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্টলে বসে তাদের পছন্দের মানুষদের উদ্দেশে আবেগঘন চিঠি লেখেন।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী তামান্না লিপি নামের এক শিক্ষার্থী তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘চিঠি লেখার মতো একটি সুন্দর ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে ক্যাম্পাসে আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। বর্তমান ব্যস্ত জীবনের মাঝে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে মনের কথা প্রকাশ করার সুযোগ আমাদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।’
অনুষ্ঠানে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নিলয় কুমার দে চিঠির সঙ্গে জড়িত তাঁর জীবনের একটি আবেগঘন স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন আমার মা মারা যান। খালা, ফুফু ও চাচিদের স্নেহেই আমি বড় হয়েছি। ছাত্রজীবনে একসময় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলাম, তখন আমার ফুফু আমাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন— “প্রিয় নিলয়, আমি বিশ্বাস করি, তুমি চেষ্টা করলেই সব পারবে। আর সবাই যা বলে, আমি তা বিশ্বাস করি না।” ফুফুর চিঠির ওই দুটি লাইনই আজ আমাকে এই অবস্থানে আসার সাহস জুগিয়েছে।’
আয়োজকদের পক্ষ থেকে গবিসাসের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম নিরব বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের কাছে চিঠির বিষয়টি অনেকটা গল্পের মতো শোনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধিক্যের এই যুগে আমরা চিঠির সেই অকৃত্রিম অনুভূতিগুলো হয়তো বুঝতে পারি না। আগে চিঠি ডাকযোগে পোস্ট অফিসে যেত এবং সেখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছাত। বর্তমানের বার্তা পাঠানোর যে প্রযুক্তি, তাও পুরোনো চিঠির যুগ থেকেই বিবর্তিত হয়েছে। আমরা সেই পুরোনো ঐতিহ্য ও আবেগকে ক্যাম্পাসে নতুন করে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) প্রতিনিধি ও গবিসাসের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই উৎসবটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
ডিআর




Comments