Image description

জিপিএ-৫ অর্জন দিয়ে সাফল্যের প্রথম ধাপ পেরিয়েছে ৬০০ শিক্ষার্থী। তবে শুধু পরীক্ষার খাতায় ভালো ফল নয়, মেধা-মনন, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে তাদের। রাজশাহীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়ে এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় নগরীর সিএন্ডবি মোড় এলাকার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখা আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে শুধু জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে উঠতে হবে। এজন্য পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, দক্ষতা, চিন্তাশক্তি, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন জরুরি।

মেধাবীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাওলানা কেরামত আলী বলেন, তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু মাদকের বিস্তার তরুণদের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। মাদকের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাই মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। তরুণদের হাত ধরেই দেশের পরিবর্তন ও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও যোগ্যতাকে মানুষের উপকারে কাজে লাগাতে হবে। মেধাবীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হতে হবে

প্রধান আলোচক জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের বর্তমান সময়টি মাত্র সূচনা। জিপিএ-৫ অর্জন জীবনের শেষ সাফল্য নয়; বরং এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, সাফল্যের জন্য প্রথমে নিজেকে চিনতে ও জানতে হবে। শুধু নিজ শহর বা এলাকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেই হবে না; বর্তমান বিশ্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের দক্ষতা, জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বাড়াতে হবে। শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়; একজন দায়িত্বশীল ও যোগ্য মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্যও শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

‘শুধু উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেই পরিপূর্ণ মানুষ হওয়া যায় না’

সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজীর বলেন, ছাত্রশিবির ভালো মানুষ তৈরি করতে চায়। শুধু উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে না; এর সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা কেন বাড়ছে, সেটিও ভাবতে হবে। প্রকৃত মানবিক মানুষের অভাব থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জীবনে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে যেমন ভালো কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ভুল পথে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই এই সময়টাকে জ্ঞান, দক্ষতা ও চরিত্র গঠনের কাজে ব্যবহার করতে হবে।

ফুল দিয়ে বরণ, হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহার

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামী সংগীত ও উদ্বোধনী বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য, কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশ, দেশাত্মবোধক গান এবং সম্মাননা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তাদের হাতে বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রভোস্ট ড. শাহ হোসাইন আহমেদ মেহেদী, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ অন্যান্য বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তারা নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জিন্নাতুন খানম ও ফারহানা ইসলাম অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, জিপিএ-৫ অর্জনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। এমন আয়োজনের জন্য তারা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজীর। সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ডা. সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নৈতিকতা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে শুধু ভালো ফলাফল নয়, দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল মানসিকতাও প্রয়োজন।

এসএ