Image description

নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দেড় বছর পার হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার। তাঁকে হল থেকে নামাতে চারবার চেষ্টা করেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা সফলতা পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করেছেন হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভোস্ট।

অভিযুক্ত সবুজ শাহরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ছাত্রদলের দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট দখল করে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

হল প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে, নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ায় প্রায় দেড় বছর আগেই সবুজ শাহরিয়ারের প্রাতিষ্ঠানিক সিট বাতিল করা হয় এবং তিনি হল ত্যাগ করেছিলেন। তবে গত চার-পাঁচ মাস ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি আবারও বলপূর্বক হলে অবস্থান শুরু করেন। অছাত্র হওয়ায় তাঁকে হল ত্যাগের জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও সরাতে ব্যর্থ হয়েছে হল প্রশাসন।

অবৈধভাবে হলে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ শাহরিয়ার বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নই, এটি সত্য। তবে আমার প্রাক্তন বিভাগের ল্যাবে গবেষণার কাজের সুবিধার্থে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক বন্ধুর রুমে বেড শেয়ার করে থাকি। ভালো কোনো বাসা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে আমি হল ছেড়ে দেব।” একই সঙ্গে হল প্রভোস্টের মৌখিক অনুমতি নিয়েই অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন এই ছাত্রদল নেতা।

এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, “রাকসু নির্বাচনের তিন-চার মাস পর থেকে তিনি নিয়মিত হলে থাকা শুরু করেন। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তার তো ফলাফল হয়ে গেছে এবং শিক্ষাজীবনও শেষ হয়েছে, তাহলে তিনি কীভাবে হলে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা কয়েকবার হল প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি।’

অনধিকার অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আল-আমিন সরকার বলেন, “দেড় বছর আগেই তাঁর সিট বাতিল করা হয়েছিল। চার-পাঁচ মাস আগে বিসিএস পরীক্ষার অজুহাত দিয়ে সে পুনরায় হলে ওঠা শুরু করে। আমি নিজে ৩-৪ বার তাঁকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছি, কিন্তু সে কথা শোনেনি।”

কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রভোস্ট আরও বলেন, “আমরা আগামীকাল তাঁকে আবারও অফিসিয়াল চিঠি দেব। এরপরও সে হল না ছাড়লে প্রক্টর দপ্তরের সহযোগিতা নেব। একটা বিষয়েরও তো শেষ আছে, এরপর আর সম্ভব নয়।”

ডিআর