নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) 'ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোঅর্গানিজম ডে-২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় প্রজেক্টরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠার ঘটনায় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে র্যালি শেষে অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা শুরু হয়। সভার শুরুতে প্রজেক্টরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য একটি ইউটিউব ভিডিও চালু করা হয়। তবে ভিডিওটির একদম শেষ অংশে প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় ধরে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি উপস্থিত অতিথিদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। পরবর্তীতে প্রজেক্টরের ভিডিও বন্ধ করে দিয়ে শুধু অডিও চালুর মাধ্যমে পুনরায় সম্মান প্রদর্শনপূর্বক জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
ঘটনার পরপরই আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা এবং বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী শোকজ নোটিশ প্রদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংগীত পরিবেশনকালে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন করা 'সুস্পষ্ট অসদাচরণ' এবং চাকরি শৃঙ্খলার পরিপন্থী। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাকে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে'র শহীদ ও আহতদের প্রতি চরম অসম্মানজনক ও অবমাননাকর হিসেবে আখ্যা দিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। ব্যস্ততার কারণে প্রচারিত জাতীয় সংগীতের ভিডিওটি আগে থেকে রিহার্সাল বা পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আসামাত্রই আমরা দ্রুত স্ক্রিন বন্ধ করে দিই।"
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, "ইউটিউব থেকে চালানো ভিডিওটিতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। তদারকিতে থাকা শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খেয়াল করেনি। পরবর্তীতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জাতীয় সংগীতের ব্যাকগ্রাউন্ডে এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের স্পর্শকাতর অনুষ্ঠান শুরুর আগে সঠিক তদারকি ও পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া আয়োজক কমিটি ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব ছিল।
ডিআর




Comments