Image description

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিয়ের তিন মাসের মাথায় ঘুমন্ত শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আকলিমা আক্তার নামের ওই পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ।
গুরুতর আহত শাশুড়ি শাহেদা বেগম (৫৩) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টোনা গাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন প্রবাসী মঈন উদ্দিন ফয়সালের সঙ্গে আকলিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আকলিমা তার শাশুড়ি শাহেদা বেগমের সঙ্গে একই ঘরে থাকতেন।
গেল ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে খাবার শেষে শাহেদা ও আকলিমা একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক একটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহেদার ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে আকলিমা হামলা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় শাহেদার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তার মাথার বিভিন্ন স্থানে কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে আত্মরক্ষার জন্য শাহেদা আকলিমার হাতে কামড় দেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন শাহেদাকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় শাহেদার মেয়ে ফারজানা আকতার পপি বাদী হয়ে তার ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে পুলিশ আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
শাহেদা বেগমের পরিবারের সদস্যদের দাবি, আকলিমার সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তাদের ধারণা, ওই ব্যক্তির প্ররোচনায় শাশুড়িকে হত্যার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আকলিমার বাবা। তিনি বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পর্ক নেই।
ফটিকছড়ি থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সুমন দাস বলেন, এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এসএ