Image description

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুল্লা বাজার। সময়ের পরিক্রমায় ও পরিবর্তনের হাওয়ায় এই বাজারের পুরনো অনেক রূপ হারিয়ে গেলেও কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে এর গৌরবময় ঐতিহ্য। একসময়ের জমজমাট কলার হাট, পানের হাট কিংবা মাছ বাজারের চিরচেনা কোলাহল আজ হয়তো আগের মতো নেই, কিন্তু এর ঠিক জায়গাতেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম বিখ্যাত শুটকি ও শীদলের বাজার। যা আজও টিকিয়ে রেখেছে বুল্লা বাজারের ঐতিহ্য।

সোনালী অতীতের ব্যস্ততা ও বর্তমান রূপ

স্থানীয় প্রবীণদের সূত্রে জানা যায়, অতীতে বুল্লা বাজারের নির্দিষ্ট ওই স্থানটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততম এক বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল থেকে দূরদূরান্ত থেকে আসা পাইকার ও ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকত কলার হাটা, পানের হাটা এবং মাছ বাজার। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ব্যবসা ও চাহিদার ধরনের পরিবর্তনের ফলে অন্যান্য পণ্যের হাটগুলোর পরিধি কমে এলেও ব্যতিক্রম কেবল শুটকি ও শীদলের বাজার। অতীতের সেই ব্যস্ত জায়গাজুড়ে এখন রাজত্ব করছে এই ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু ও গ্রামীণ পদের পণ্যগুলো।

প্রতিদিনের হাট ও বেচাকেনার জমজমাট চিত্র

বুল্লা বাজারের এই শুটকি ও শীদলের বাজারে শুধু নির্দিষ্ট হাটবারের দিনই নয়, বরং প্রতিদিন বসে একই রকম জমজমাট বেচাকেনার পসরা। স্থানীয় নদী-নালা ও হাওর অঞ্চলের দেশীয় মাছের তৈরি খাঁটি শুটকি এবং ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধযুক্ত শীদল কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমান এখানে। শুধু লাখাই উপজেলা নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি দূর-দূরান্ত থেকেও পাইকার ও সৌখিন ক্রেতারা ছুটে আসেন বুল্লা বাজারের এই প্রসিদ্ধ শুটকি ও শীদল সংগ্রহ করতে।

ঐতিহ্যের শেকড় ধরে রাখার প্রত্যয়

আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার হারিয়ে গেলেও বুল্লা বাজারের এই শুটকি-শীদলের হাট প্রমাণ করে যে, গুণগত মান ও ঐতিহ্যের টান থাকলে তা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায় না।

এসএ