রাজধানীর বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শতাধিক বাড়ির মালিক ও প্লট মালিক অংশ নেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বনশ্রীর ডি-ই অ্যাভিনিউ রোডে বনশ্রী সোসাইটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সোসাইটির জন্মলাভের পর ইস্টার্ন হাউজিং এখানে প্লট বিক্রি করে বিভিন্ন কমন ফ্যাসিলিটিজ বনশ্রী সোসাইটিকে তথা বনশ্রীর বাসিন্দাদের দেবে—এ মর্মে একটি পত্র দিয়েছিল। অন্যান্য কমন ফ্যাসিলিটিজের সঙ্গে এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল করার কথাও ছিল।
বক্তারা বলেন, লে-আউট প্ল্যানে সুনির্দিষ্টভাবে একটি হাসপাতাল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক করার কথা লেখা আছে। জায়গাটি একদম খালি ছিল। সেখানে বনশ্রীর বাসিন্দারা ও তাদের ছেলেমেয়েরা ফুটবল খেলত। এ কারণে অনেকের ধারণা, এটি খেলার মাঠ। কিন্তু বিগত এক মন্ত্রীর হাত ধরে লাঠি ঘুরিয়ে জায়গাটি দখল করা হয়।
তারা বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করেছি। এই জায়গার দখলস্বত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করলাম। আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হলো। এই কর্তৃত্ব মেনে নেব না। আমরা এখানে ধাক্কাধাক্কি করব না। বাড়ির মালিকরা আইনের পথে হাঁটবে। সুনির্দিষ্টভাবে হাসপাতাল এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের জায়গা থাকার পরে বিক্রির অনুমতি কে দিয়েছে? এই জায়গায় কীভাবে প্ল্যান পাস হয়?’
বনশ্রী সোসাইটির সভাপতি শাহাবুদ্দিন শিকদার বলেন, ‘আমাদের এখানে বড়সড় একটা বাণিজ্যিক ভবন গড়ে উঠছে। এত বড় বিল্ডিংয়ের লোকজন কোথা দিয়ে যাবে? আমাদের জায়গা আইনানুগ পদ্ধতিতে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আগামী পনেরো দিনের মধ্যে এই জায়গা ফেরত না পাই, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করব। এই জায়গা থেকে শেলটেককে আইনের পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে উচ্ছেদ করতে বাধ্য হব।’
শাহাবুদ্দিন শিকদার বলেন, ‘আমাদের কোনো বাড়ির মালিক, আমাদের কোনো বাড়ির মালিকের সন্তান কেউ এই শেলটেকের বিরুদ্ধে তাদের একটা স্থাপনায় হাত দেবে না। আমরা শক্তি প্রদর্শন করব না। আমরা আইনের পথে হাঁটব এবং আইনের পথে হেঁটে আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করব।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, গতকাল থেকে আজকের দিনে বিশেষ করে শেলটেকের পেটোয়া বাহিনী, তাদের ভাড়াটে বিভিন্ন খুনিরা ফেসবুকে এবং আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে এবং কথা বলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই বলে যে তারা এই শেলটেকের ব্যাপারে কোনো আইনানুগ পথে না হাঁটি। তারা আমাদেরকে হত্যা করবে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের পরিচয় দিয়েছে জিসান ও শামীম। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এই ধরনের কোনো মানুষ এটা করছে না। আমরা পরে একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে জেনেছি, এই ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং তারা নিয়মিতই এই রকম দস্যুবৃত্তি করে থাকে। এই রকম পেটোয়া বাহিনী লালন-পালন করে জনগণের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে। সন্ত্রাসী দিয়ে খুনের ভয় দেখাবেন—এটা ঠিক নয়।’
ডিআর




Comments