Image description

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পিএবি সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই অবুঝ শিশুর মধ্যে ছোট ভাই মোরশেদ (২) এখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বড় বোন আয়েশা (৪) সুস্থ থাকলেও বারবার খুঁজছে তার ছোট ভাইকে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে দেখা গেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। হাসপাতালের আইসিইউতে যখন দুই বছরের মোরশেদ মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন, ঠিক তখন বাইরের ওয়েটিং রুমে খেলাধুলায় ব্যস্ত তার চার বছরের বড় বোন আয়েশা। সে জানেও না তার ছোট ভাইটি কতটা বিপদের মধ্যে আছে। তবে খেলার মাঝেও বারবার তার অবুঝ চাহনি যেন মোরশেদকেই খুঁজছিল।

উদ্ধারের পর থেকে শিশু দুটির সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত রয়েছেন সিএনজি চালক মহিম উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম। তারা জানান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার পর মোরশেদকে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দুজন নার্স সার্বক্ষণিক তার সেবা নিশ্চিত করছেন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, "উদ্ধারের সময় থেকেই ছোট শিশু মোরশেদ অসুস্থ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় অনাদর ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অবস্থা সংকটাপন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় নিজে শিশু দুটির দায়িত্ব নিয়েছেন এবং নিয়মিত খোঁজ রাখছেন।"

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশ থেকে এই দুই শিশুকে অভিভাবকহীন ও ক্রন্দনরত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

পরবর্তীতে গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে পুলিশ বাঁশখালী উপজেলা থেকে শিশুদের বাবা খোরশেদ আলমকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ আলম স্বীকার করেছেন, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি সন্তানদের রাস্তার পাশে ফেলে গিয়েছিলেন। তাদের স্থায়ী বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মহামনি এলাকায়।

প্রশাসন জানিয়েছে, মোরশেদ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আয়েশার দেখাশোনাও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর