Image description

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় বিদায়লগ্নে ঢাকার ধামরাইয়ের মাটি যুক্ত হয়েছে অনন্য এক সম্মানের সঙ্গে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফনকার্যে ব্যবহৃত হয়েছে ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়ন থেকে সংগৃহীত মাটি। এই মাটি ধামরাইবাসীর জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী গর্ব ও আবেগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ঢাকার জিয়া উদ্যানে দাফনের প্রস্তুতি চলাকালে কবরের জন্য শুকনো ও ভালো মাটির প্রয়োজন দেখা দেয়। সে রাতে জিয়া উদ্যানের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের বাসিন্দা ও মেসার্স রুবেল ব্রিকসের মালিক সাজিবুজ্জামান রুবেলকে ফোন করেন।

রুবেল ব্রিকসের মালিক ও যুবদল কর্মী সাজিবুজ্জামান রুবেল জানান, রাত তখন প্রায় ১০টা। রাষ্ট্রীয় ও আবেগীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি তাৎক্ষণিক নিজের ভেক্যু (Excavator) দিয়ে শুকনো মাটি ট্রাকে লোড করেন। নিজ খরচে সেই মাটি নিয়ে তিনি নিজেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে আমিন বাজারে এক পুলিশ সার্জেন্টকে মাটি নিয়ে যাওয়ার কারণ জানালে ওই কর্মকর্তা তাকে দ্রুত যাতায়াতে সহায়তা করেন। রাত ২টার দিকে মাটি নিয়ে জিয়া উদ্যানে পৌঁছালে প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম তা রিসিভ করেন। পরবর্তীতে সেই মাটি দিয়েই সম্পন্ন হয় দেশনেত্রীর দাফন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "দেশনেত্রীর কবরের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভালো মাটির প্রয়োজন ছিল। আমি রুবেল ভাইকে ফোন দেওয়ার পর তিনি যে দ্রুততায় সাড়া দিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। ধামরাইয়ের সেই মাটি দিয়েই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।"

দাফনের সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ হাতে মায়ের কবরে নামেন এবং তিনিই প্রথম মাটি দিয়ে দাফন শুরু করেন। এরপর তিন বাহিনীর প্রধান ও দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দাফনকার্যে অংশ নেন।

প্রিয় নেত্রীর শেষ শয্যায় ধামরাইয়ের মাটি ব্যবহৃত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কালামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম কন্ঠু বলেন, "গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রীর শেষ ঠিকানায় ধামরাইয়ের মাটি থাকা আমাদের জন্য পরম গৌরবের।" স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ কবিরও একই অনুভূতি প্রকাশ করে একে ধামরাইয়ের ইতিহাসের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর