জুয়া খেলার সংবাদ প্রকাশ করায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া খেলার সংবাদ প্রকাশের জেরে মোখলেছুর রহমান নামে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাওহা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে। হুমকির একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।
ভুক্তভোগী মোখলেছুর রহমান গৌরীপুর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক পরিষদের সদস্য সচিব এবং ফেসবুক পেজ ‘গৌরীপুর প্রতিদিন’-এর পরিচালক।
জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর ভোরে মাওহা ও অচিন্তপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তাঁতিরপায়া গ্রামে এক বিশাল ষাঁড়ের লড়াই ও জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়। ওই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে মোখলেছুর রহমান সংবাদ প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হন ইউপি সদস্য কামাল হোসেন। এরপর তিনি সাংবাদিক মোখলেছকে ফোন করে হুমকি দেন। ৭ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই ভাইরাল অডিওতে ইউপি সদস্যকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ১৬-১৭ বছর বসে রয়েছি, এখন আমাদের সুদিন আসছে। আমরা বিএনপি করি, এখন এসব কাজ করবই। প্রশাসন ও প্রেসক্লাব ম্যানেজ করেই আমরা এসব করছি।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার সন্ধ্যায় গৌরীপুর পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ‘গৌরীপুর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক পরিষদ’। সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।
হুমকির বিষয়ে সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান বলেন, “জুয়া খেলার সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় ইউপি সদস্য আমাকে ফোনে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন। তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দিয়েছেন। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, “কামাল হোসেন বিএনপির কেউ নন। বিগত সময়ে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে। দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম ও সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কামাল হোসেন হুমকির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সংবাদে স্থানের নাম ভুল হওয়ায় রাগের মাথায় কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলে ফেলেছি। এজন্য আমি দুঃখিত।”
গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার জানান, সাংবাদিককে হুমকির অডিওটি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ বা থানা ম্যানেজ করে জুয়া খেলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments