পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মাঝনেতা এলাকায় ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী আয়শা ওরফে আশা মনি হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. রুবেল প্যাদাকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল প্যাদা উপজেলার নেতা বাজার এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি বিকেলে রাঙ্গাবালীর সালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন তার বাবা বাবুল প্যাদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নেমে গত ৪ জানুয়ারি দুপুরে আয়শাদের নিজেদের রান্নাঘর থেকেই প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পর আয়শার বোন সাথী বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম তদন্তে নেমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেল প্যাদার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল স্বীকার করেছে যে, পারিবারিক বিরোধের জেরে সে আয়শাকে একা পেয়ে গলাটিপে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে রান্নাঘরে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখে। সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, আয়শার মা প্রবাসে থাকায় সে তার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়িতে থাকত। ঘটনার দিন তার বাবা কাজে এবং ভাই বাইরে থাকার সুযোগে ঘাতক এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বস্তা, একটি কাঁথা ও ভিকটিমের কাপড়সহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে।
রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments