Image description

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তীব্র ভাঙন, নাব্যতা সংকট ও নদীপথ পরিবর্তনের কারণে গাইবান্ধা জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে জেলার অন্তত ১০টি নৌঘাট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বুধবার সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার তিন উপজেলার দশটি চরের অন্তত লক্ষাধীক মানুষ বসবাস করেন।এদিন উপজেলার পূর্ব অংশে ভোগলিক এলাকার প্রাই পনের শতাংশ নদী ও চরাঞ্চল।এই বির্তণ জনপদে অভ্যন্তরীণ নৌঘাট কুড়িটি। 

শিক্ষা, চিকিৎসা, হাট বাজার এবং চাষাবাদের প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে নদ-নদীর এপার ওপার যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু নদ-নদী গুলো বর্তমানে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় অন্তত দশটি নৌঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। 

জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি কাপাশিয়া চরের রাজা মিয়া বলেন,নদীতে পানি নেই। মাইলের পর মাইল শুধুই বালুচর। এখন শহরের হাট বাজার গুলোতে যাওয়া আমাদের জন্য পাহাড় টপকানোর মতো কঠিন হয়ে পরেছে। নদীর নাব্য সংকটে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তার বুক এখন ধুধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। মানুষ বাধ্য হয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পাঁয়ে হেটে যোগাযোগ রক্ষা করছে। চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহণে কৃষককে বেগ পেতে হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ঘোড়ার গাড়ি, অটোভ্যান কিংবা কাঁকড়া, ট্রাক্টরে চড়ে পাঁচ থেকে কুড়ি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে যেমন ব্যয় বাড়ছে তেমনি গুনতে অতিরিক্ত ভাড়ার টাকা।দ্রুত নদী ড্রেজিং এর মাধ্যমে নৌপথ সচল করার দ্বাবী চরাঞ্চলের মানুষের। 

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউপি সদস্য হামিদ মিয়া বলেন, বালাসী নৌঘাটের সাথে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর বাদ নৌঘাট এর সাথে যোগাযোগের দুটি নৌবন্দর নির্মাণ হলেও তা এখন বন্ধ রয়েছে, ফেরী চলাচলের প্রয়োজনীয় পানি না থাকায়। এজন্য ড্রেজিং করার দ্বাবী তুলেছেন চরাঞ্চলের মানুষ।নদীর সাথে হাজারো মানুষের জনজীবিকা জড়িত।

বালাসী ঘাটের ইজারাদার হাসু মিয়া বলেন, প্রতি বছর বিপুল টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিলেও নাব্য সংকটে ঘাট বন্ধ থাকায় লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে। নৌযান চলাচল না করায় আয় বন্ধ হওয়ার পথে।

গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে যমুনা নদে ড্রেজিং করে নৌপথ সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নদের বিশাল এলাকা জুড়ে সংকট নিরসন কর্তিপক্ষ কিছু কিছু স্হানে ড্রেজিং করে একটি রুট সচল রাখার চেষ্টা করলেও বিশাল চরাঞ্চল মানুষের জন্য তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

আ/র