Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন বানচালের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বরিশাল জেলা পুলিশের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠান থেকে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামের যোগদান উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সের কনফারেন্স রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম জানান, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বরিশাল জেলায় মোট ৬১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের ২০১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ৫৬টি যানবাহন জব্দ এবং ২৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে যারা মাঠে নামবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, মহানগরীর ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত সদস্যদের শরীরে ‘বডি-অন ক্যামেরা’ যুক্ত থাকবে। এতে মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ আলম বলেন, “সহিংসতা, নাশকতা কিংবা গুজব ছড়ানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপশক্তিকে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না।”

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে এবং আনসার, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে জেলাজুড়ে ৪৬টি মোবাইল টিম, ৩৩টি চেকপোস্ট এবং ১০টি সিভিল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি জাকির হোসেনসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর