Image description

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে তিন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তারেক মিয়া অনুসারীদের বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগে পালিয়ে গেছেন। অন্য দুই দণ্ডপ্রাপ্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাগরনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা আক্তার।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে উত্তর সাগরনাল গ্রামের জামিল উদ্দিনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড) এবং ফুলতলা বাজারের রায়হান আহমদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড) দেওয়া হয়। এছাড়া মাটি কাটায় সহযোগিতার দায়ে বিরইনতলা গ্রামের তারেক মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। তারেক মিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুড়ী উপজেলা শাখার সাবেক সমন্বয়ক এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দণ্ডাদেশের পর অভিযুক্তদের উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ে আসা হলে তারেক মিয়ার ৪০–৫০ জন অনুসারী অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এই বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক মিয়া সেখান থেকে পালিয়ে যান।

তবে অন্য দুই দণ্ডপ্রাপ্ত জামিল উদ্দিন ও রায়হান আহমদকে রোববার বিকেলেই পুলিশি পাহারায় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফ দস্তেগীর জানান, "অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় তিনজনকে হাতেনাতে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তদের একজন বিশৃঙ্খলার সুযোগে পালিয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কান্ত নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক ব্যক্তির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর