Image description

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেট দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভে ঢাকা–দোহার সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বালাশুর বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন ‘তমি মার্কেট’-এর সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিঞা।

নিহত ব্যক্তি মো. আলমগীর (৫০), তিনি বালাশুর এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তুষার (২৪) ও আব্দুর রহমান (২৩)। আহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আলমগীর ও তার ভাই তমিজউদ্দিন যৌথভাবে বালাশুর বাজারে একটি মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। তবে একই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় হান্নান হাজী, মানিক ও তাপস আদালতে মামলা করেন। মামলায় ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজন মার্কেটটি দখলের চেষ্টা চালায়।

সকালে হান্নান ও মানিক তাদের অনুসারীদের নিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেট দখল করতে গেলে আলমগীর বাধা দেন। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে বাঁচাতে স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে হাসপাতালের গেটের সামনে আবারও আলমগীরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে বেলা ১১টার দিকে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা–দোহার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভ চলাকালে বালাশুর এলাকায় হান্নান হাজীর একটি মার্কেটের সামনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীনগর থানার ওসি মো. জুয়েল মিঞা বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/আরআই