Image description

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া এলাকায় সড়কে বালুর বস্তা ফেলে তাঁর গাড়ি বহর আটকে দেওয়া হয়। এছাড়া ওই এলাকার সব দোকানপাট এবং এমনকি পানির টিউবয়েলও বন্ধ করে রাখার অমানবিক চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, সোমবার বিকেলে বাহিরদিয়া বাজারে ধানের শীষের একটি নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। ওই এলাকায় খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থীর বাড়ি ও মাদরাসা অবস্থিত। শামা ওবায়েদ সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে সড়কের ওপর পরিকল্পিতভাবে বালুর বস্তা ফেলে রাখা হয়। পরে নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে সেসব সরিয়ে গাড়ি বহর নিয়ে সভাস্থলে পৌঁছান।

নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, শামা ওবায়েদ ওই এলাকায় আসার সংবাদে বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা চলে যান। এমনকি পিপাসার্ত নেতাকর্মীরা যাতে পানি পান করতে না পারেন, সেজন্য বাজারের টিউবয়েল পর্যন্ত খুলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেন, "রাস্তায় বালুর বস্তা ফেলে রাখা তো আওয়ামী লীগের কাজ ছিল। ফ্যাসিবাদের সময় বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনেও এভাবে বালু ফেলা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাধীন দেশে এমন দৃশ্য আমরা দেখতে চাই না। দেশ এখন গণতান্ত্রিক পথে হাঁটছে।"

তিনি আরও বলেন, "বাইরদিয়া কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি অত্যন্ত অমানবিক যে, সাধারণ মানুষ বা আমাদের মা-বোনদের এক ফোঁটা পানি খাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। একটি ওষুধের দোকানও খোলা ছিল না। ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি কি এমন পরিবেশের জন্য? আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সবাই স্বাধীনভাবে ভোট চাইবে—এটাই কাম্য।"

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি মফিজুর রহমান বলেন, "বালুর বস্তা ফেলে গাড়ি বহর আটকে দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তবে এটি যদি কেউ করে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর