মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ ‘টেঁটাযুদ্ধ’ হয়েছে। এতে চারজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গাজী মার্কেট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—ইমরান (২৮), লিটন (৪৮), সোহাগ (৩৫) এবং রিয়াজুল (২০)। আহত অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গুরুতর টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় রিয়াজুল ও ইমরানকে প্রথমে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের কালাইচান মাদবর ও জহিরুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বুধবার দুপুরে জহির গ্রুপের সদস্য সোহাগ গাজী মার্কেট এলাকায় পাইপ ফিল্টারের কাজ করতে গেলে কালাইচান গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা ও রামদা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, কালাইচান গ্রুপের হাবি, জহিরুদ্দিন, সেলিম, রিফাত সাওন, সুজন, ইমন, নয়ন ও আমজাদসহ বেশ কয়েকজন এই সশস্ত্র হামলায় সরাসরি অংশ নেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হান্নান জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এই মারামারি হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন সহিংসতায় সাধারণ ভোটাররা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। প্রশাসন এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments