Image description

ভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও নির্মিত হয়নি স্থায়ী শহীদ মিনার। উপজেলার ২০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৩টিতেই কোনো স্থায়ী মিনার নেই। ফলে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে কলাগাছ ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটায় ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি ১৩৮টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী মিনার নেই। অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আওতাধীন ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ) মধ্যে ৩৯টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলেও ১৫টি প্রতিষ্ঠানে এখনো কোনো মিনার নির্মিত হয়নি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে তারা বাধ্য হয়ে বাগান থেকে কলাগাছ কেটে ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী মিনার তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে ফুল দিতে তাদের দূরের অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের মনে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান বলেন, "শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছি। আপাতত যেসব স্কুলে মিনার নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে দিবসটি পালনের ব্যবস্থা করা হয়।"

পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম জানান, গত বছর উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে ১২টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর