ফাগুয়ায় পূর্ণ বোনাস ও বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ মজুরির দাবি চা-শ্রমিক সংঘের
চা-শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা বা ‘ফাগুয়া’ উপলক্ষে প্রাপ্য পূর্ণ উৎসব বোনাস এবং বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ মজুরি প্রদানের দাবি জানিয়েছে চা-শ্রমিক সংঘ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মৌলভীবাজার জেলা কমিটি এই দাবি জানায়।
বিবৃতিতে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা অভিযোগ করেন, ৩ মার্চ থেকে দোল উৎসব শুরু হলেও অধিকাংশ বাগানে পূর্ণ বোনাসের পরিবর্তে আংশিক বোনাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুরসহ বিভিন্ন বাগানে উৎসব বোনাসের পরিবর্তে কর্মে উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ‘হাজিরা বা উৎসাহ বোনাস’ দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (সংশোধিত) এবং শ্রম বিধিমালা-২০১৫ অনুযায়ী, একই শিল্পে কর্মরত সকল শ্রমিককে সমান হারে উৎসব বোনাস প্রদান করা বাধ্যতামূলক। এমনকি ২০২৩ সালের মজুরি গেজেটেও (এসআরও নং ২৪৬-আইন/২০২৩) এর স্পষ্ট আইন রয়েছে। মালিকপক্ষ এই আইন লঙ্ঘন করায় প্রতিকার চেয়ে শমসেরনগর চা-বাগানের রামনারায়ণ গৌড় নামে এক শ্রমিক সিলেট শ্রম আদালতে মামলা (মামলা নং- ২১/২০২৫) দায়ের করেছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে চা-শ্রমিকদের মজুরি অত্যন্ত অমানবিক। বর্তমানে ‘এ’ ক্লাস বাগানে দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭.৪৩ টাকা এবং ‘বি’ ও ‘সি’ ক্লাসে আরও কম। প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম বা শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মজুরি সর্বনিম্ন।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ৬ সদস্যের একটি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য দৈনিক ১,০০০ টাকা মজুরি, বার্ষিক ১৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং চা-শ্রমিক সংঘের ১০ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments